সাধারনত তোমাদের বয়সী ছেলেমেয়েদের নিজেদের শরীর সম্পর্কে কৌতুহল থাকে। নিজের শরীর সম্পর্কে জানতে চাওয়া ভালো এবং এত লজ্জা পাবার কিছু নেই। বয়সন্ধিকালে তোমাদের শরীরে ও মনে স্বাভাবিকভাবেই অনেক পরিবর্তন আসে। কারো এ পরিবর্তন আগে শুরু হয় আবার কারও পরে। বয়সন্ধিকালে তোমাদের মতো ছেলেমেয়েদের শরীরের এসব পরিবর্তন হরমোন বা প্রাণরসের কারণে হয়ে থাকে। বেড়ে ওঠার এ ব্যাপারটা অনেকেই বংশগত তবে এখানে সঠিক পুষ্টিরও বেশ প্রভাব রয়েছ।
যখন একটি মেয়ে ১০-১২ বছর বয়সে পৌছে, তখন তার শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়। যেমন- উচ্চতা বাড়ে, মাসিক শুরু হয়, স্তন বড় হয়, বগলে ও যৌনাঙ্গে চুল বা লোম গজায়। এই পরিবর্তনগুলিই হচ্ছে মেয়েদের বড় হওয়ার লক্ষণ। মাসিক একটি মেয়ের শারীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা সাধারণত ১০-১৩ বছর হওয়ার পর শুরু হয় এবং স্বাভাবিক নিয়েমে ৪৫-৪৯ বছর বয়স পর্যন্ত চলে। মাসিক স্রাব শুরু হওয়ার প্রথম বছগেুলোতে কিছুটা অনিয়ম হতে পারে এবং তলপেটে ব্যথা হতে পারে। যদিও এ বয়স থেকেই মেয়েরা গর্ভবতী হতে পারে ,তবে ২০ বছরের আগে শারীরিক বৃদ্ধি পুরোপুরি না হওয়ার কারণে সন্তান ধারণ করা উচিত নয়।
মেয়েদের মতো ছেলেরা যখন বড় হতে থাকে তাদেরও বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন- উচ্চতা বাড়তে থাকে, কাঁধ চওড়া হয় এবং শরীরের মাংসপেসী শক্ত হতে থাকে। ছেলেরা বড় হচ্ছে তার আরও লক্ষন হলো দাড়ি-গোফ গজানো ও গলার স্বরের পরিবর্তন। এ বয়সে ছেলেদের শরীরে শুক্রানুযুক্ত রস মাঝে মধ্যে মূত্রনালী দিয়ে বের হয়ে আসে, যাকে “ স্বপ্নদোষ ” বলা হয়। এই শুক্রানুই সন্তান জন্মদানের বীজ। স্বপ্নদোষ আসলে দোষের কিছু নয় বরং এটা ছেলেদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজনন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষণ।
কৈশোরকালীন সময়ে ছেলেমেয়েদের শারীরিক পরিবর্তন সাথে সাথে বেশ কিছু মানসিক পরিবর্তন দেখা যায়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নিজেদের বড় ভাবতে শুরু করা, পরস্পরের প্রতি আকর্ষনবোধ, অজানা জিনিস জানার কৌতুহল, চেহারা ও পোষাক সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং আরো অনেক কিছু। তোমাদের কারো কারো এ সময় স্বাধীনভাবে চলতে ইচ্ছে হয় ও স্বাবলম্বী হতেও ইচ্ছে করে। কেউ কেউ একা থাকতে পছন্দ করতে পারো আবার কেউ কেউ বেশ মিশুক হতে পারো। মনে রেখো এই পরিবর্তনগুলো সাময়িক। বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে এসব ব্যাপারে স্বাভাবিক বলে মনে হয়।
কৈশোর কৌতুহলের বয়স। এ সময় তোমাদের নিজেদের শরীর,নারী-পুরুষের সম্পর্ক ইত্যাদি অনেক বিষয়ে জানতে ইচ্ছে করতে পারো। বেশিরভাগ সময় দেখা যায় এ বয়সে তোমরা নানা রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও আবেগের ফলে অনেক বড় বা ছোট সিন্ধান্ত নিতে ভূল করে থাকো। তাই মা-বাবা ও অন্যান্য অবিভাবকদের পরামর্শ নেয়া এ সময় তোমাদের জন্য খুব প্রয়োজন হতে পারে। তারা তোমাদের সবচেয়ে আপনজন ও সবসময় তোমাদের ভালো চান। আর তোমরা এটা যতই অবিশ্বাস্য মনে করো না কেন, তারাই তোমাদের সবচাইতে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। যে কোন সমস্যা হলে তাই তোমরা তাদের কাছে তোমরা সহজেই সমাধান পাবে।
পারিবারিক সম্পর্ক
যখন একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে তখন সে শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ন অসহায় থাকে। মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্যদের আদর-যতœ ও ভালবাসা সে আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠে। তোমাদের মতো আমরা সবাই পরিবারের মধ্যে থেকে এভাবইে বড় হয়েছি। পরিবারের সবার মধ্যে এ সম্পর্ক ও বন্ধন সাধারনত খুবই আন্তরিক ও মধূর হয়ে থাকে।
ছেলেমেয়েরা যখন বড় হতে শুরু করে তখন মা-বাবারা তাদের প্রতি বেশি মনোযোগী ও যতœশীল হয়, কারণ এ বয়সটাই ভবিষ্যত গড়ার সময়। তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা মনে রেখই তোমাদের ভালোর জন্য তারা মাঝে মাঝে শাসন করতে পারেন। তোমরা হয়তো ভাবো, আমরা তো এখন বড় হয়ে গেছি-সবই বুঝি, তবুও কেন মা-বাবারা এত উপদেশ দেন। মা-বাবারা তোমাদের চেয়ে অনেক বড়,তারা এ বয়স পার করে এসেছেন এবং জীবন সম্পর্কে তাদের অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই তাদের কথা মেনে চললে তোমাদের ভালো ছাড়া খারাপ কিছু হবে না।
একটি পরিবার মা-বাবা ও তুমি ছাড়াও আরও অনেকে যেমন- ভাই-বোন,চাচা-চাচী,দাদা-দাদী,দূরসম্পর্কের আত্মীয়-স্বজন থাকতে পারে। সবার সাথে সুন্দর ও ভালো সম্পর্ক পরিবারের সুখ ও শান্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন যা তোমাদের সারা জীবন কাজে লাগবে। একসাথে থাকলে নিজেদের মধ্যে অনেক ভুল বুঝাবুঝি হতেই পারে। যে কোন সমস্যা হলে পরিবারের সবার সাথে খোলামেলা আলোচনা করে নিলে তা সমাধানের পথ আরও সহজ হয়।

No comments:
Post a Comment